ভাইয়ের বন্ধু যখন বর😍 part-18+19
:আনুষ্ঠান শেষ হতে এখনো বাকি,এখনো কিছু গেস্ট আছে যারা একটু দেরি করে আসবে, তাই জিসান তিশা,নিশিও ভাবীকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছে।আর ভাই,বাবা ও মার সাথে নিজেও পার্টিতে রয়ে গেলো গেস্ট এটেন্ড করার জন্য।তিশার মা বাবা কে ও পাঠিয়ে দিয়েছ,রাত বেশি বলে।কিন্তু রায়হান রয়ে গেছে।
:তিশা বাসা এসে ফ্রেস হয়ে বসলো।খুব ক্লান্তে ঘুম আসছে কিন্তু্ু ক্ষুধাও খুব লাগছে।বলা হয় না,যার বিয়ে সেই খেতে পারেনা কিন্তু বাকি সবাই আনন্দ করে পেট ভরে খায়।অনুষ্ঠানে সবার সামনে লজ্জায় কিছু খেতেই পারেনি।কিন্তু এখন টিকা যাচ্ছে না।আর এই বাসার কোন কিছু আমি জানিই না কোথায় কি আছে,তা না হলে রান্নাঘর থেকে কিছু নিয়ে খেয়ে নিতাম।তিশা ভাবছে,,,,। আর এমন সময় ফোন আসলো।স্ক্রিনে লিখা জিসান।
হ্যালো,,,, আসসালামালাইকুম।
জিসান সলামের জবাব দিয়ে,বাসায় পৌঁছিয়েছো।
হুমমমমম।
কখন????
এইতো কিছুক্ষন হলো।
ফোন কেনো দেও নাই।
না আসলে, ভাবলাম আপনে ব্যস্ত।
আমি যতোই ব্যস্ত থাকি,তোমার ফোনের অপেক্ষায় থাকি।
হঠাৎ জিসানের মুখে তুমি শুনে তিশাতো অবাক।
কি হলো কথা বলো না কেন।
না, আসলে সরিিিি।
ওকে বাদ দেও,শোনও
হুমমমম
আমার আলমারীর চাবী দেখো বালিশের নিচে আছে,ওখান থেকে চাবিটা নিয়ে আলমারীটা খোলও।
তিশা চাবী নিয়ে আলমারীরটা খুললো।
দেখও আলমারীর নিচের তাকে তোমার জন্য কিছু খাবার আছে,তুমি সারা দিন তেমন কিছুই খাওনি।এখানেও কম খেতে দেখলাম।আর এখন বাসায় তোমাকে খাবার দেয়ার মতো কেউ নেই।তুমি এখান থেকে কিছু খেয়ে ঘুমিয়ে পরো।খালি পেটে তোমার ঘুম আসবে না।আমার আসতে লেট হবে,তাই তুমি ঘুমিয়ে পরো।
তিশা মনোযোগ দিয়ে জিসানের কথা শুনছে,আর ভাবছে।আলমারীর নিচর তাকে,বিস্কুট, কেক জুস,আরো কিছু খাবার আছে,এখানের সব খাবারি তিশার পছন্দের।কি করে সম্ভব, একটা মানুষ এমন কি করে হতে পারে।
তিশা হ্যালো, তিশা,শুনতে পাস।জিসান ফোনের অন্য পাশে।
হুমমমমম,আমি শুনছি।চিন্তা থেকে ফিরে,,।
তাহলে রাখি এখন।
আপনে খেয়েছেন।
না,এখন বসবো রায়হানের সাথে।
ওকে।
বায় বলে ফোন রেখে দিলো তিশা।কিছু হালকা খাবার খেয়ে তিশা বিছানায় পিঠ লাগাবার সাথে সাথেই।ঘুমিয়ে পরলো।
জিসানের আসতে আসতে রাত ১ টা বেজে গেলো।জিসান এসে দেখে তিশা ঘুম,তাই আর ডাক দেয়নি।ফ্রেস হয়ে তিশার পাশে শুয়ে,তিশাকে একটান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসলো।তিশাকে জরিয়ে ধরে নিজেও ঘুমিয়ে পরলো।
আজ সকালে তিশার ঘুম আগে ভাঙ্গলো, তিশা দেখে জিসানের বুকের উপর মাথা রেখে শুয়ে আছে।তিশার কিছুটা লজ্জা লাগলো।তিশার নাকে একটা মিস্টি ঘ্রান আসে,এই ঘ্রাণ টা জিসানের শরীল থেকেই আসছে।জিসানের শরীলের এই ঘ্রাণটা তিশার খুব ভালো লাগে।এর আগেও কয়েকবার পেয়েছে,যখনি জিসান ওর একদম কাছে ছিলো।জিসানের শরীলের ঘ্রনটা তিশাকে কিছুটা মাতাল করে তুলছে,তাই তিশার উঠতেই মন চাইছে না আজ।সারাদিন জিসানের বুকে মাথা রেখে শুয়ে থাকতে মন চাইছে।হঠাৎ মনে পরলো আজতো তিশার নিজেদের বাসায় যাওয়ার কথা....।না উঠতেই হবে।তিশা আস্তে করে উঠে চলে যেতে চাইলে কিছুতে টান অনুভব করে।পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে জিসানের হাতে তিশার শাড়ীর আচলটা।তিশা চলে যেতে চাইলে জিসান আচল ধরে টান মারে।তিশা সামলাতে না পেরে জিসানের বুকের উপর পরে যায়।
আমার তিশাপাখি যাচ্ছে কোথায় আমাকে ছেড়ে.....
আপনে জাগনা ছিলেন এতোক্ষন।
চুপিচুপি আমাকে দেখার কি আছে, আমিতো পুরাই তোর।আর এতোই শখ আমার বুকে ঘুমানোর তাহলে কোথায় যাস,সারাদিন তোকে আমি এই বুকের মধ্যে রাখতে পারবো।তিশাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে কথাগুলো বলছে জিসান।
না না আমার এতো শখ নেই,প্লিস ছাড়ুন, তা না হলে আজ বাসায় গেলে আমি আর আসবো না।
এবার জিসান তিশাকে বিছানায় ফেলে, তিশার উপর উঠে দুহাত চেপে ধরে।
তিশা কিছুটা ভয় পেয়ে যায়।
কি বললি,তুই।আসবি না,,,,,তুই আমার বাঁধনে বেধে আছোস। আর এই বাঁধন ছিড়ার সমর্থ কারো নেই।তিশার কপালে কপাল দিয়ে,নাকে নাক ঘসছে আর বলছে।তুই না আসলে তোকে বেধে নিয়ে আসবো।পালাতে চাইলে শিখল দিয়ে বেধে রাখবো। তাই আমাকে ছাড়ার স্বপ্ন ছেড়ে দেন ম্যাডাম বলই,তিশার ঠোটে একটা লিপ কিস করে।এর পর জিসান উঠে চলে যায় ফ্রেস হতে।
তিশার চোখ মনে হয় কপালে উঠে গেছে,জিসানের কিস করায়।তিশা এখনো ভাবছে কি হলো এটা।ওর জেনো বিশ্বাস হচ্ছে না।তিশা এতোটাই চিন্তায় মগ্ন ছিলো যে ও সব কিছু ভুলেই গেছে।
জিসান এসে দেখে তিশা এখনো ভাবছে, কি রে এতো কি ভাবছেন।আরো কিছু লাগবে টিক তিশার সামনে এসে।
না না,,,। আমি ফ্রেস হয়ে আসছি।তিশা ফ্রেস হয়ে দেখে জিসান রেডি হচ্ছে অফিসে যাওয়ার জন্য।
আপনে কোথাও যাবেন।
জিসান তিশাকে আয়নার সামনে এনে পেছন দিয়ে জরিয়ে ধরেছে,আর নিজের থুতনি তিশার কাধে রেখে,,,,,হুমমম।আমাকে অফিসে যেতেই হবে,ভাইয়ার সাথে।অনেক কাজ আছে,আমি না গেলে ভাইয়ার উপর সব চাপ পরে যাবে। রায়হান আসবে তোমাকে নিতে, তুমি চলে যেও ওর সাথে।আমি অফিস থেকে সরাসরি চলে আসবো তোমার কাছে।কথা গুলো বলছে আর তিশার গলায় কাধে কিস করছে।জিসানের এতো কাছে আসা,আর ওর একটা কিসে তিশা কেপে উঠছে।তাই জিসান তিশাকে আরো একটু শক্ত করে ধরে।জিসান তিশার কানের কাছে মুখটা নিয়ে,এখনি যদি এতো কাপতে থাকস তখন কি করবি,যখন আমি তোকে ভালোবাসার সাগরে ডুব দেওয়াবো।জিসানের কথায় তিশার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেছে কিন্তু কেনো জানি ভালোও লাগছে।
হইছে এখন ছাড়ুন।সবাই বসে আছে, আমাদের জন্য।
আচ্ছা চল,,,,জিসান একটু হেসে দিলো তিশার এ অবস্থা দেখে।তিশাকে নিয়ে নিচে নেমে এলো।
খাবার টেবিলে,
কি রে জিসান তুই অফিসে যাবি,আজ না তিশাদের বাসায় যাওয়ার কথা।একদিন না গেলে কি হয়।জিসানের মা।
না মা আজ যেতেই হবে,অনেক কাজ বাকি পরে গেছে।আর আমি রায়হান কে সব বুজিয়ে বলেদিছি।তাই চিন্তা করোনা,আমি অফিস শেষ করেই ওখানে চলে যাবো।
আমি বলি কি, আমি না হয় চলে যাই,তুই থাক।
না বাবা,তোমার বয়সের তুলনায় তুমি অনেক কাজ করেছো, আর না।এখন আমাদের ভাইদের উপর ছেড়ে দেও।আচ্ছা আমার শেষ,ভাইয়া তুমিও তারাতারি চলে আসো আমি বাহিরে আছি।
আচ্ছা চল আমারো হয়ে গেছে।
জিসান অফিসে চলে গেলো,আর তিশা নাস্তা করে ভাবীর সাথে টেবিল গুছাচ্ছে।
আরে তিশা মা তুমি কেনো করছো,তুমি যাও রেডি হয়ে নেও।রায়হান চলে আসবে।
এই কাজটা করেই আমি যাচ্ছি।
থাক তিশা আমি আর খালা মিলে করে ফেলবো, তুমি রেডি হতে যাও।
সমস্যা নেই ভাবী আমার রেডি হতে তেমন সময় লাগবে না,আমাকে সাহায্য করতে দেও এখন।
জিসান ঠিকই বলেছে,তুমি অনেক জিদিই।
তিশা ভাবীর সাথে কাজ গুলো করে রুমে চলে আসে রেডি হতে।
কিছুক্ষন পর নিশি এসে,মেঝো ভাবি তোমার ভাইয়া আর বাবা এসেছে নিচে,তোমাকে মা ডাকছে চলো।
তিশা নিশিকে নিয়ে নিচে এসে ভাইয়া আর বাবার সাথে দেখা করে।কিছুক্ষন সবাই কথাবলে,তিশা সবার থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় চলে যায়।
তিশার মা তিশার জন্য অপেক্ষা করছে,মাকে দেখে তিশা জরিয়ে ধরে।
তিশার মাতো কান্না করতে থাকো,এতোই যদি ভালবাসতে তাহলে আমাকে বিদায় করার জন্য এমন উঠে পরে লাগলে কেনো।এখন বিদায় করে, এতো কান্না করছো।
পাগল মেয়ে,তুই যেদিন মা হবি সেদিন বুঝতে পারবি,,, ভেতরে আস এখন।আজ আমি তোকে নিজের হাতে খাওয়াবো টিক আছে। ওকে মা জননি,,,,।
আর শোন তোর রুমে সীমা আর নিলা বসে আছে তোর জন্য।এই কথা আগে বলনি কেনো,তিশা দৌড় দিয়ে রুমে চলে আসে।
কি রে শাঁকচুন্নিরা তোরা আমার রুমে কি করোস।তিশশশশা।নিলা দৌড়ে এসে তিশাকে জড়িয়ে ধরে।হইছে ছাড়,,,,,। আমিও কিন্ত আছি।তিশা -তাই,আমিতো দেখিনি।তাইইই,,,,,শয়তান মাথারী,আমাকে বলে দেখেনি,সীমা আর তিশা রুমের চারপাশে দৌড়াচ্ছে, তিশাকে মারার জন্য।হইছে থাম এখন।
হে রে তিশা এবার বল।
কি বলবো।
এই তো তোর বাসররাতের কাহিনী।
মানেননন।
মানে মানে করছোস কেনো এতো,আমাদের একটু বল আমাদেরও ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।
এতোই যদি বাসর রাতের কাহিনী শুনতে মন চায় তোর, তাহলে সীমাকে জিঙ্গেস কর,ওরতো আমার চেয়ে বেশি আইডিয়া আছে,যা ওর থেকে শিখে নে।।
নিলা সীমার দিকে তাকিয়ে আছে,কি রে আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছোস কেনো।দেখ আমি কিছু বলতে পারবো না,তোর জানার এতো ইচ্ছা থাকলে তুই বিয়ে করে নে।তোর জামাই তোরে সব শিখিয়ে দেবে।
এখন না না করছো কেন সীমাবেগম,এতোক্ষন আমার পিছে লেগেছিলে তখন মনে ছিলোনা।
আরে বাদদে,ও একটা ফাজিল মেয়ে,বিয়ের আগে বাসরঘর করার শখ বেশি দেখছ না।তাই,,,,নিলা সীমাকে মারার জন্য তেরে উঠে।
তিশা থামিয়ে দেয়, হইছে।আর না এবার বস তোরা।তিনজন বিছানায় শুয়ে উপরের পাখার উপর তাকিয়ে আছে।
তিশা,,,,, জিসান ভাই তোকে অনেক ভালোবাসে তাই না।
||হুমমমম।
বিয়ের আগে নাকি পরে।
||বিয়ের আগের থেকে।
তাইইই।দেখে কখনো মনেই হতো না।
||হুমমমম।
তুই ভাইয়াকে ভালোবাসিস।
||যদি তোকে কেউ বলে,সে তোকে ৫ বছর ধরে ভালোবাসছে,বিনিময় কিছুই তোর কাছে আসা না করে।তোর অপেক্ষায় নির্গুম রাত কাটিয়েছে কবে তুই একটু বড় হবি।আর তাকে একটু ভালোবাসার চাদর দিয়ে জরিয়ে ধরবি।কেউ যদি তোর জন্য নিজের ক্যারিয়ার স্বপ্ন বিসর্জন দেয় শুধু তোকে নিজের নজরে রাখতে আর অন্যের নযর থেকে বাঁচাতে। তোর বিপদে সবার আগে ঢাল হয়ে দাড়াতে।এমন অনেক কিছু যা বলে শেষ করা যাবে না।এমন মানুষটিকে, না ভালোবেসে থাকা যায় বল।
সত্যি বলছিস,৫বছর ধরে, মানে তুই যখন অষ্টম শ্রেণীতে পরস,তখন তেকে তোকে ভালোবাসে।
||হুমমমমমম।
জিসান ভাই সাঙ্গাতিক মানুষ,এতো কিছু মনে লুকিয়ে রাকছে কিভাবে।
||জানিনা,কিন্ত এখন উপলদ্ধি করে,,,তাকে নাকি আমি অনেক কস্ট দিছি।
ভালোই হলো তিশা, তোর বিয়েটা যেভাবে হইছে,আমিতো ভাবছিলাম অনেক সমস্যা হবে।কিন্ত জিসান ভাই যেহেতু তোকে ভালোবাসে দেখবি আর কোন সমস্যা হবে না।
||কিন্ত অর সীমাহীন ভালোবাসা দেখে আমারতো ভয় লাগে।
আরে ভয়ের কিছু নেই,আস্তে আস্তে দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে,ভাইয়ার রাগও অনেক কমে যাবে।
||তাই জেনো হয়।
ভাইয়ের বন্ধু যখন বর😍
writer-Airyan
part-19
জিসান অফিসের সব কাজ তারাতারি শেষ করে, বিকালবেলা তিশার বাসায় চলে গেলো,সেখানে কিছুক্ষন রায়হানের সাথে গল্প করলো।
জিসান তুই ফ্রেস হয়ে কিছুক্ষন রেস্ট নে।তিশা ওকে তোর রুমে নিয়ে যা।তিশা জিসানকে নিজের রুমে নিয়ে যায়,আর নতুন কিছু কাপড় এনে দেয় জিসানকে ফ্রেস হয়ে পড়ার জন্য।
এগুলো কার কাপড়,রায়হানের।
না,আপনার জন্য বাবা আনছে।
তাইইই,কি দরকার ছিলো,আমি রায়হানের কিছু পরে নিতাম।
এটা নিয়ম , নতুন জামাই প্রথম বাড়ীতে এলে শ্বশুরের দেয়া কাপড়ি পরতে হয়।
খুব সুন্দর নিয়মতো,,,,,তো আর কিছু নিয়ম শিখিয়ে দেয়নি তকে।
তিশাকে পেছন দিয়ে জরিয়ে ধরে,এই যেমন স্বামী আসলে তাকে সেবা করা,তাকে জরিয়ে ধরে আদর করা।সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে তাকে ডিপলি একটা কিস করা।
না না এমন কোন নিয়ম নেই,কে বলে আপনাকে এসব। আমিতো আজও এসব দেখিনি কাউকে বলতে।
যতোসব আজাইরা নিয়ম।
তিশা জিসানকে ধাক্কা দিয়ে চলে যেতে নিলে,জিসান তিশার হাতটা ধরে টান দিয়ে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে।
এই তুই দেখবি কি করে,এর আগে তোর কয়টা বিয়ে হইছে,,,,বল।
কি যা তা বলছেন, মানুষের কয়টা বিয়ে হয়,আর বিয়ে হলেই সব জানবে, আর না হলে জানবে না কে বলেছে।
ওওও আমার তিশাপাখিতো তো তাহলে সব জানে,তাহলে এতোই যেহুতু জানো,তাহলে স্বামীর থেকে এতো দূরে দূরে থাকো কেনো জানু।জানো না স্বামীর থেকো দূরে থাকা আল্লাহ পছন্দ করে না।।তিশার কোমড় কে দুই বাহুদিয়ে আবদ্ধ করে রেখে।
হইছে,আজকের জন্য,এখন আপনে ফ্রেস হতে জান।আমি চা নিয়ে আসছি।তিশা জিসানের কাছ থেকে ছুটার চেস্টা করছে।
জানু আমি না ছাড়লে তুমি হাজার চেস্টা করেও নিজেকে ছুটাতে পারবে না,তাই শুধু শুধু নিজের শক্তি নস্ট করো না।।
জিসান তিশাকে ছেড়ে দিয়ে কাপড়গুলো নিয়ে ওয়াস রুমে চলে যায়।
ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে দেখে তিশা এখনো আসেনি,তাই জিসান আধো শোয়া অবস্থায় বিছানায় বসে মোবাইল টিপছে। তিশা চা নিয়ে আসে।জিসান চা টা এক চুমুক নিয়ে, আমার মাথাটা অনেক ব্যাথা করছে তাই আমি কিছুক্ষন ঘুমাবো।
তিশা চায়ের খালি কাপটা হাতে নিয়ে চলে যেতে চাইলে,জিসান তিশার হাতটা ধরে বলে,তুই কোথায় যাস।
আপনে ঘুমাবেন আমি কি করবো,বরং আমি থাকলে আপনার ঘুমের ডিস্টার্ব হবে তাই।
আমি ঘুমাবো,তুই আমার চুলগুলো টেনে দিবি।
কিকিকি,,,।
এতো জোরে চিল্লানোর কি আছে।
না মানেননন।
এতো মানে জানতে চাইনি, বস এখানে।
তিশাকে বিছানায় বসিয়ে তিশার কলে মাথা রেখে শুয়ে পরে।তিশা জিসানের মাথাটা বিলি দিতে থাকে।
তোকে আমি কি বলছি।
কি,,,।
আমি চুলগুলো টানতে বলেছি,বিলি দিতে না।
তিশা চুলগুলো টেনে টেনে দেয়।
তিশা,,,,,,,,?
হুমমমমম।
দুপুরে খাস নাই।
হুমমমম, খেয়েছিতো।
তাহলে এতো আস্তে আস্তে কেনো টানছিস, শক্তি নাই হাতে।কিছুটা চেঁচিয়ে।
তিশা মুখটা ভেঙ্গছিয়ে চুলগুলো জোরে জোরে টানতে থাকে।
আমি না উঠা পর্যন্ত তুই কোথাও যাবি না,এখানেই থাকবি,আমি ঘুম থেকো উঠে তোকো না দেখলে খবর আছে।
আসলেই পাগল,কখন ভালেবাসে, কখন রাগ করে,আর কখন যে মতিগতি নস্ট হয়ে যায়।কিছুই বুজিনা।
তিশাও বসে ভাবতে ভাবতে কিছুটা ঘুমিয়ে যায়।
মাগরিবের আজানে তিশার ঘুম ভেঙ্গে যায়।
তিশা-এই যে শুনছেন উঠুন।আর ঘুৃমাতে হবে না।
তিশার ডাকাডাকি তে জিসান তিশার কোমড় টা আরো শক্ত করে ধরে ঘুম থেকেই বলেই কি করছোস, ঘুমাতে দে আরো একটু।
ঠিক আছে আপনে ঘুমান,কিন্তু আমাকে যেতে দিন।বাড়ীর সবাই কি মনে করবে, আমি এতোক্ষন রুমে কি করছি।
জিসান লাফ দিয়ে উঠে বসেই তিশার দিকে রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে বলে সবাই তোর মতো গাধা না,,,,,সবাই বুঝে শুধু তুই ছাড়া।
এ কথা বলেই জিসান ফ্রেস হতে ওয়াসরুম এ যেতে নিলো।
কি আমি গাধা, আমি গাধা হবো কি করে,এতো পড়া লেখা করে ও আপনে জানেন না।
তিশার কথা শুনে জিসানের মন চাইছিলো তিশাকে আছাড় মারতে।
জিসান তিশার দিকে তেড়ে আসে,তিশা ভয়ে রুম থেকে পালানোর জন্য দৌড় দিলে,জিসান তিশার হাতটা ধরে টান দিয়ে বুকের সাথে চেপে ধরে।
সব জানিস তাই না,কিন্তু জা জানার তাই জানোস না,এবার বাসায় চল দেখ কিভাবে সব শিখিয়ে দি।
তিশাতো ভ্যাবাচেকা হয়ে তাকিয়ে আছে।
জিসান তিশাকে ছেড়ে দিয়ে, যা তারাতারি রেডি হো,আমরা ডিনার করেই আজই বাসায় চলে যাবো।
তিশা মুখটা ঘোমরা করে বলে,আমি কাল আসি।
-এক কথা আমি দ্বিতীয় বার বলবো না,আর আমরা আজই যাবো।
জিসান ফ্রেস হতে চলে গেলো।
ডিনার টেবিলে,জিসান তোমরা নাকি আজই চলে যাবে।
জি মা।একটা দিন থাকো।কাল চলে যেও।না মা,অফিসের কাজ অনেক জমে গেছে,আর ভাইয়ার একা সম্ভব না, তাই জেতেই হবে।আর কাল নাকি আমার কাজিনরা বাসায় আসবে ,তাই তিশাকেও নিতে হবে।আমরা পরে একদিন সময় করে আসবো।
আচ্ছা বাবা,তুমি যা ভালো মনে করো।ডিনার করে সবার সাথে কিছুক্ষন কথা বলে তিশাকে নিয়ে বাসায় চলে আসলো।জিসান বুজতে পারছে, তিশার মন খারাপ।এভাবে বাসা থেকে নিয়ে আসার কারনে।কিন্তু জিসান তিশাকে একদিনও তার কাছ থেকে দূরে থাকতে দেবে না।তাই তিশাকেও থাকতে দেয়নি।
বাসায় আসতে আসতে অনেক লেট হয়ে গেছে।ওরা বাসায় এসে দেখে সবাই যার যার রুমে, হয়তো ঘুমিয়ে পরছে,তাই কাউকে ডিস্টার্ব না করে রুমে চলে গেলো।
রাতেও তিসা জিসানের সাথে কোন কথা বলেনি,জিসান কিছু কাজ বাকি ছিলো বলে লেপটপ নিয়ে বসে কাজ করছে।আর তিশা ঘুমিয়ে পরছে।
আজ সকালে উঠেও তিশা নিজেকে জিসানের বুকের উপর পেলো।তিশা মনে মনে ভাবছে,আমি রোজ রোজ বালিশ ছেড়ে এখানে কি করে আসি।
হঠাৎ জিসান, এতো ভাবিস না,তোর মতো পিচ্ছি এগুলো বুজবে না।
রেগে গিয়ে, তাহলে এই পিচ্ছি কে বিয়ে করছেন কেন।বড় কাউকে বিয়ে করতে পারলেন না।যে সব বুঝে।
হঠাৎ জিসান এক ঝটকায় আমায় বিছানায় ফেলে দিয়ে আমার উপর উঠে দুহাত চেপে ধরে।
ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলি।কিন্তু হঠাৎ ফিল হয় ঠোটে কিছুর স্পর্শ, চোখ খুলে বুঝার আগই আমার ঠোট ওর ঠোটের মধ্যে নিলো।উমমমমম,,,,।আমার চোখ জেনো কপালে উঠে গেলো।জিসানকে সরানোর চেস্টা করতে লাগলাম কিন্তু হাত দুটো শক্ত করে ধরে রাখছে।আমার ছটফটানও তো ওর কোন মনোযোগ নেই।ও নিজের কাজে ব্যস্ত। প্রায় অনেকক্ষন পর আমায় ছাড়ে।
আমার দিকে তাকিয়ে বললো,এটা তোর শাস্তি আমাকে এতো দিন দূরে রাখার জন্য।আর এখন থেকে নিজেকে তৈরি করে রাখ আস্তে আস্তে আমি সব শিখিয়ে তেবো আমার এই পিচ্ছি বউটাকে।
একটা ডেবিল হাসি দিয়ে ফ্রেস হতে চলে গেলো।
আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না,এটা কি ছিলো, স্বপ্ন নাকি বাস্তব। কেউ আমাকে একটি চিমটি মারো।কিন্তু কে মারবে কেউ তো নেই।আমি মনে হয় স্বপ্ন দেখছি।আআআয়য়য়।কিন্তু আমার ঠোটটা এমন ফুলে গেছে কেনো।তার মানে এটা সত্য ছিলো।শয়তান ব্যাটা আমার ঠোট কি তোর জাগির মনে করেছোস।যে এমন করলি।তিশা বসে বসে জিসানের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করছে।
জিসান এসে দেখে আজও তিশা ঠোঁটে হাত দিয়ে কি জেনো ভাবছে।তাই তিশার সামনে এসে ভিজা চুলগুলো হাত দিয়ে ঝাকাতে লাগলো,ভিজা চুলের পানি তিশার উপর পড়লে চিন্তা থেকে বের হয়ে আসে।
তিশা জিসানের দিকে তাকিয়ে আছে।এক অদ্ভুত অনুভূতি লাগছে।জিসানে উন্মুক্ত শরীলটায় জেনো এক নেশা আছে।আগে কখনো কোন ছেলেকে এমন ভাবে দেখিনি বলে কি আজ এমন লাগছে।
জিসান আয়না দিয়ে দেখতে পেলো সব।কি রে এভাবে কি দেখছোস, চোখ দিয়ে আমাকে গিলে খাবি মনে হয়।
ফাজিল কোথাকার,মুখে কিছু আটকায় না।কিছু না, আপনার লজ্জা শরম নেই। কোন মেয়ের সামনে এভাবে থাকে।
কোন মেয়ে মানে, আমি আমার বউয়ের সামনে যেমনে খুশি তেমনে থাকবো।এতে লজ্জার কি আছে।আর এতো লজ্জা নিয়ে থাকলে তোর লজ্জা ভাঙ্গাবো কিভাবে।হুমমমম।বলতো,,,,।জিসান তিশাকে এক চোখ টিপ মেরে বলে।
উফফফফ,,,,,।বিরক্ত নিয়ে ওয়াসরুম এ চলে গেলো।
জিসান ওয়াসরুমের দরজা নক করে,তারাতারি বের হয়ে নিচে আস।।
জিসান নিচে নামার কিছুক্ষন পর তিশাও নেমে আসে।
আরে তোরা কখন এলি,আমি তো ভাবলাম তোরা আজ আসবি।
না মা আমরা কাল রাতই এসে পরেছি।লেট হয়ে গিয়েছে বলে তোমাদের আর ডাকিনি।
আচ্ছা ঠিক আছে,এখন বস নাস্তা করে নে।আজ আবার মেহমান আসবে,তাই জিসান ও তাওহিদ তোরাও তারাতারি আসিস।
আচ্ছা মা চেস্টা করবো আমরা।নাস্তা করে অফিসে চলে গেলো ওরা।
আর তিশা, তানজিলা ও রেনু খালাকে নিয়ে সব গুচগাচ করে নিলো।
রাতে জিসান ও তাওহিদ বাড়ীর ভেতরে ঢুকতেই চেচামেচির শব্দ শুনে দাড়িয়ে যায়।
ভাইয়া মনে হয় শয়তান গুলো এসে পরছে,আজ থেকে আর শান্তি দিবে না।
ঠিক বলছিস, আমিতো তোর ভাবীর কথা চিন্তা করছি।ঝুমুর কে দেখলে আমার দিকে এমন ভাবে তাকায় মনে হয় খেয়ে ফেলবে।
ঠিকই আছে, বলতে গেছো কেনো,ঝুমুর আপুর কথা আগ বাড়িয়ে।
আরে বলবো না তো কি করবো।দেখোস না মেয়েটা বাসায় আসলেই আমার পিছ ছারে না।তানজিলা তো একদিন আমাকে চেপে ধরেছে সমস্যা কি,তাই সব বলে দিলাম।
ভালো এখন বুঝো।আগে চলো ভেতরে দেখি কি অবস্থা।
চল।আর আল্লাহ কাছে দোয়া করিস আমার জন্য।
তাওহিদ ও জিসান ভেতরে গিয়ে দেখে সবাই ড্রয়িং রুমে আড্ডা করছে।কিন্তু জিসান কিছু একটা দেখে ওর রাগ উঠে যায় তিশার উপর।
চলবে.....

No comments