Update Story
📢 গল্পঃসিনিয়র_খালাত_বোন_যখন_বউ পর্বঃ০৬    📢 গল্পঃসিনিয়র_খালাতো_বোন_যখন_বউ পর্বঃ০৫    

ভাইয়ের_বন্ধু_যখন_বর😍 ---------------(season 2) (🖤) part_12🍁




"তিশা ঘুমিয়ে আছে এখন।সারারাত জার্নি করে ক্লান্ত শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দিতেই রাজ্যভরা ঘুম যেনো চোখে এসে পড়লো।
অথচ সারারাত জিসান আর রায়হান কতো করে বললো,একটু ঘুমিয়ে নে।কিন্তু তখন যেনো ঘুম চোখে এসে ধরা দেবার নামই নেয়নি।"

---বরং সারা রাস্তায় তিনজন (তিশা,নিশি,ও নিলু)মিলে বকবক করতে করতে কান দুটো শেষ করে দিয়েছে।মেয়েরা যে এতো কথা কোথা থেকে পায় জিসান আর রায়হান তা ভেবেই সারা রাস্তা পার করেছে।
একসময় সহ্য করতে না পেরে,রায়হান কানে তুলা দিয়ে বসে পরলো,আর জিসান কানে হেড ফোন।কারন এদের থামানো অসম্ভব।

"কাল বৌ-ভাতের অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে বিকেল হয়ে গিয়েছিলো।এর পর জিসান আবার সবাইকে আইসক্রিম ট্রিট দিতে নিয়ে গিয়েছিলো।ওখান থেকে এসে শুনে সবাই আজই যাওয়ার প্লান করেছে,তাও আবার ট্রেনে।
তিশা ও নিশি এর আগে কখনো ট্রেনজার্নি করেনি।তাই তারা এক্সাইটেড হয়ে পড়লো।আর এক্সাইডমেন্ট এর খুশিতে সারা রাস্তা কথা বলেই পার করলো।কিন্তু বাসায় এসে আর চোখ দু'টো খুলে রাখতে পারলো না।এসেই শেষ তিশা।"

---তিশা ঘুম থেকে উঠতে উঠতে ১২টা বেজে গেলো।
উঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তা নিয়ে বসলো।নাস্তা করছে আর ফেসবুকে বিয়েতে তুলা নিজের কিছু পিক আপলোড দিচ্ছে।কিছুক্ষণ পরেই লাইক আর কমেন্ট এর ধুম পড়ে গেলো।

"তিশা নিশি ও নিলুকে জ্বালানোর জন্য কনফেরান্সে ফোন দিয়ে ফেসবুক দেখতে বললো।নিজের ছবিতে লাইক কমেন্ট এর ঝড় দেখে খুশিতে তিশা যেনো আত্মহারা।
 কিন্তু তিশার খুশি বেশিক্ষণ রইলো না।হঠাৎ করে তিশার লাইক কমেন্ট কমতে লাগলো।ফেসবুকে ফ্রেন্ড ও কমে যেতে লাগলো।"

---ফোনের অপর পাশ থেকে নিশি বলে উঠালো, কি রে দোস্ত তুই তো এতোক্ষন সেলিব্রেটি ছিলি এখন কি হলো।হিরো আলম থেকে জিরো আলম হয়ে যাচ্ছিস।

"আরে ইয়ার নিশি আমিও বুঝতে পারছি না।"

---আমার মনে হয় কেউ তোর আইডি হ্যাক করেছে।(নিলু।)

"ওয়াট!রিয়েলি!কিন্তু কে করেছে।ঠিক এসময়  মেসেঞ্জারে একটা মেসেজ এসেছে।"

'সবাইকে রুপ দেখিয়ে পাগল করার চেস্টা করছিস।যদি এই রুপই না থাকে,তখন।থাপ্পড় দিয়ে তোর গাল দু'টো লাল করে ফেলবো,যদি আমি আরেক দিন দেখি এভাবে সেজেগুজে ছবি আপলোড দিচ্ছিস।শুধু ফ্রেন্ড ছাড়া অন্য কাউকে এড করলে,তোর ফেসবুক চালানো আমি ছুটিয়ে ফেলবো।পাসওয়ার্ড চেন্জ করার চেস্টা ও করবি না।মেসেঞ্জার এ কারো সাথে কথা বলিসনি,তাই এযাত্রায় বেঁচে গেছিস। না হলে তোর কি হতো সেটা আমিও জানি না'

---তিশা মেসেজ পড়ে ৪২০ ভোল্টেজ শোকড এর উপর শোকড খেলো।

'আর এদিক দিয়ে নিশু আর নিলু কতোক্ষন ধরে হ্যালো হ্যালো করে যাচ্ছে তিশার কোনও খবর নেই।'

----তিশা মেসেজ এর রিপ্লাই দিলো,আপনে আমার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড নাম্বার জানলেন কি করে।

'আমিতো তোর বডির নাম্বার ও জানি,এতো শুধু পাসওয়ার্ড এর নাম্বার। আমার জন্য তেমন কিছুই না 'জান'।

_____অসভ্য কোথাকার।

"মনে মনে বলেই লগআউট করে দিলো ফেসবুক।আজ আর যাবেই না ফেসবুকে।"

---এখনকি আমি শান্তিমতো ফেসবুকও চালাতে পারবো না।উফফ!তিশার ভীষন রাগ উঠছে জিসানের উপর।
নিশি নিলি একসাথে বলে উঠলো,কি হয়েছে।

"কি হবে আর তিতাকরলা আমার আইডি হ্যাক করেছে।এ কোথা বলেই ভ্যা ভ্যা করে কাঁদতে লাগলো তিশা।
আমার কতো সাধের আইডি।কতো কস্ট করে ফ্লোয়ার বাড়িয়েছিলাম,এখন সব শেষ।আমার এতো বড় সর্বনাশ কি করে করতে পাড়লো তোর ভাই।"

---ফোনের অপর পাস থেকে নিশি ও নিলু একসাথে হাসতে লাগলো।যাক বাবা,এতো দিন পর ভাই একটা কাজের কাজ করলো।তোর কারনে আমাদের ফ্লোয়ার কম ছিলো,এখন আমাদের সময় তোকে জ্বালানোর।দু'জনেই অট্টহাসিতে হেসে উঠলো।তিশা রাগে দুঃখে ফোন কেটে দিলো।শয়তান ভাইয়ের শয়তান বোন কোথাকার।উম...।

||
||

"সারাদিন খেয়ে আর ঘুমিয়ে পার করলো তিশা।জিসানের ভয়ে ফোনটাও বন্ধ করে রাখলো।এখন রাত ৮:৩০ বাজে।টিভির রিমোর্ট হাতে নিয়ে বসে আছে।কারন কিছুক্ষণ পর তিশার ফেবেরেট সিরিয়াল শুরু হবে।
আর বার বার রায়হানের রুমের দিকে তাকাচ্ছে। কারন এই সময় রায়হান এসেই রিমোর্ট টা দখল করে নেয়।হয়তো নিউজ দেখবে বা খেলা দেখবে।
কিন্তু আজ তিশা কিছুতেই ভাইকে রিমোর্ট নিতে দিবেনা,দরকার পড়লে ওর সব চকলেট গুলো দিয়ে দিবে তবুও রিমোর্ট দিবেনা।কারন আজ ওর ক্রাশ এর সিরিয়াল আরম্ভ হবে।তাই আধঘণ্টা আগ থেকেই টিভির রুম দখল করে বসে আছে।"

---হঠাৎ রায়হান এর রুমের দরজা খুলার শব্দে তিশা চমকে যায়।এবার বুঝি শেষ।কিন্তু রায়হান কারও সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে বের হয়ে সোফায় বসলো।শার্ট এর হাতা ফোল্ডার করতে করতে ফোনের অপর পাশের লোকটাকে বলছে,
আরে ডোন্ট ওয়ারি, আমাকে জিসান এড্রেস সেন্ড করে দিয়েছে।তাই আমার আসতে সমস্যা হবে না।কিন্তু তুই জিসানকে কল কর।ওর মুড খুব খারাপ।(তিশার দিকে তাকিয়ে কথাটা বললো)আচ্ছা আমি এসে সব বলবো। ওকে বায়।

"তিশা চিপস খাচ্ছিলো,ভাইয়ের কথা শুনে চিপটা গিলতে যেনো কস্ট হয়ে পড়লো।তিশার বুঝতে বাকি রইলো না,ভাই যে তাকে ইশারা করেই কথাটা বললো।কারন তিশা সারাদিন ফোন বন্ধ করে বসে আছে।একারনেই যে জিসান রেগে আছে তা তিশা ভালো করেই বুঝতে পারছে।নিশ্চয়ই ভাইকেও ফোন করে কিছু বলেছে জিসান।"

---তিশা  সাহস নিয়ে ভাইকে জিঙ্গেস করলো,ভাইয়া কোথায় যাওয়া হচ্ছে এতো রাতে।

'রায়হান ভাই আমার দিকে তাকিয়ে, তোকে কেনো বলবো।আর তুই কেনো এতো কোয়েশ্চন করছিস।'

---আরে বাবা জানতে হবে না তুমি কোথায় যাচ্ছো,তা না হলে তোমার গার্লফ্রেন্ড যখন ফোন করে জানতে চাইবে,তখন আমি কি বলবো।

'রায়হান ভ্রকুচকে বললো,আমার গার্ল ফ্রেন্ড,সেটা আবার কে?'

---তা যেনে তুমি কি করবে।

'বাহরে,আমি আজও কোনও গার্ল ফ্রেন্ড বানালাম না,তাহলে তুই কাকে আমার গার্ল ফ্রেন্ড বলে দাবি করছিস।আন্দাজে।'

---তুমি করতে পারলে না বলেই তো,তোমার তরফ থেকে তোমার জন্য আমিই নিজে তোমার গার্ল ফ্রেন্ড যোগার করে ফেলেছি।আর সময় হলে তুমিও জানতে পারবে।এখন এসব বাদ দেও।

'রায়হান এর আর বুঝতে বাকি রইলো না,ইশারায় কাকে তিশা বুঝাচ্ছে।এতো বছর পর জিসান দেশে আসার কারনে ফ্রেন্ডসরা সবাই মিলে ক্লাবে পার্টির আয়োজন করছে।আজ অনেক বছর পর সব ফ্রেন্ডসরা একসাথে দেখা করবো।তাই আসতে লেট হবে।বলে দিস।'

---তিশা ভ্র দুটি নাচিয়ে কাকে?

'রায়হান হচকিয়ে কাকে আবার মাকে। ম মমা কে বলবি আমার আসতে লেট হবে।আর বড় ভাইয়ের সাথে এভাবে ফাইজলামি করতে লজ্জা করেনা তোর,ফাজিল মেয়ে।'

---হুমম বুঝছি।তিশা মিটিমিটি হাসছে।তা দেখে রায়হান তিশার মাথার মধ্য হালকা চাপট মেরে চলে যায়।আর তিশাও তার সিরিয়াল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরে।

||
||

"তিশা নিশির সাথে কথা বলে,ঘুমাতে চলো গেলো।কারন কাল আবার সকাল সকাল উঠতে হবে। অনেকদিন কলেজ মিস হয়ে গিয়েছে।পরীক্ষার আর বেশিদিন বাকি নাই।তাই এখন রেগুলার ক্লাস গুলো এটেন্ড করতে হবে।সে ব্যাপারেই কথা বললো,নিশির সাথে এতোক্ষন।"

---রাত ১:৩০ বাজে। হঠাৎ তিশার ফোনটা বাইভ্রেট হতে লাগলো।ঘুম ঘুম চোখে না দেখে ই তিশা ফোন রিসিভ করলো।

"হ্যা...লো।"

---জাএএএন। এভাবে ঘুম জরানো কন্ঠে হ্যালো বললে আমি নির্গাত খুন হয়ে যাবো।

"জিসানের কন্ঠ শুনে তিশা একটু চমকে গেলো।এতো রাতে,ঘড়িতে টাইম দেখে।আপনে এতোরাতে কেনো কল করেছেন।সব ঠিক আছে তো।"

---না কিছুই ঠিক নেই।আমার চাই।

"কেনো কি হয়েছে।আর কি চাই আপনার বলুন।"

---হুমমম....আমার আদর চাই....।তোর হাতের নরম স্পর্শ চাই।দিবি আমায় হরেক রকমের আদর।
সকাল...  বিকেল...দুপর সারাবেলা।এমন ভাবে চাই যেনো রক্তের শিরা উপশিরায় মিশে যায়।দিবি কি তুই আমাকে সে আদরের অধিকার।

আমিও চাই তোকে আদর করতে।একবার শুধু বল জান ভালোবাসি।তোর শিরা উপশিরায়,তোর শরীরের প্রতিটা ভাঁজে চুমুতে ভরিয়ে দেবো।দিবি কি আমায় বল!জাএএএন।

"জিসানে নেশা ভরা কন্ঠে আজ তিশাও যেনো নিজেকে হারিয়ে ফেলছে।জিসান সামনে না থাকা সত্যেও তিশার শরীর কাঁপছে এক অজানা শিহরণে।
কেনো এমন হচ্ছে তিশা নিজেও জানে না।তিশাকে কেউ কখনো এভাবে বলেনি।তাই এসব অনুভূতিগুলোর সাথে তিশার একদম পরিচয় নেই।তাই অদ্ভুত ফিলিংস লাগছে মনে।
এই ফিলিংস এর নাম তিশার জানা নেই। তবুও নিজেকে সামলিয়ে।আপনে ড্রিংক করেছেন।এখন হুশ নেই আপনার। কাল কথা বলবো আমরা।এখন ঘুমান।"

---হুমমম, আমার নেশা ধরেছে,কিন্তু তা মদের নেশা না। তোর নেশা এতো তুখড় যে মদের নেশা আমাকে নেশাগ্রস্ত করতে পারে না।
তোর ভালোবাসার নেশা এমন ভাবে ধরেছে যে চব্বিশ ঘন্টাই আমি তোমাতে বিভর থাকি।আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি জান।এরপর তো সবাই আমাকে পাগল প্রেমিক উপাধি দিয়ে দিবে।বলতো কি করি।

"জিসানের এমন উদ্ভট কথায় তিশার ভালো লাগার সাথে হাসিও পাচ্ছে।আপনাকে কেউ পাগল প্রেমিক বলবে না,আপনে এখন রেস্ট নিন।সকাল হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

'না না না আমি ঘুমাবো না।'

---তাহলে এই গভীর রাতে কি করবেন এখন।

'আমি চুমো খাবো।'

---ক ককি খ খখা বেন।চুমো!!!

'হুমমমম।চুঊঊমো।'

---এভার তিশার যেনো মাথা ঘুড়াচ্ছে।মনে হচ্ছে নেশা জিসান না তিশা করেছে।তা না হলে নিজেকে এমন কেনো লাগছে।
আর আজ কেনো এই মানুষটির কোনও কথাই বিরক্ত লাগছে না।যেনো সারারাত পার করতে পারবে তার সাথে কথা বলে।তিশা জিসানকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই জিসান

"তোর ঠোঁটে একটা নিশিদ্ধ চুমো দিবো।রাঙ্গিয়ে দেবো আমার ভালোবাসার রং তোর ঐ ঠোঁটে। 

আমার নিশিদ্ধ চুমোতে তুইও আমার মতো মাতোয়ারা হয়ে উঠবি।ঠিক সে রকম একটা পাওয়ার ফুল চুমো দিতে চাই তোর সেই রক্তিম ঠোঁটে।

যে চুমোতে তুই আমার হয়ে যাবি,আমার মাঝে ডুব দিতে চাইবি।সে ধরনের একটা চুমো চাই।

যে চুমোতে আমার ভালোবাসা তোর মন,প্রাণ এমনকি মস্তিষ্কে বিরাজ করবে,তেমনি চুমো দিতে চাই।

যে চুমোতে তোর গোলাপি ঠোঁট দুটো আমার ঠোঁটে বন্দি হয়ে যাবে এমনি একটা চুমো দিতে চাই।

হে প্রিয়সী,বল।দিবো কি আমি এমন একটা চুমো,তুই পেতে কি চাস সেই চুমোর পরশ।"

---তিশা স্তব্ধ হয়ে পরেছে।শরীর দিয়ে ঘাম পড়ছে।কেন এমন হচ্ছে।এই মানুষটি নিজেতো পাগল হবে, সাথে আমাকে পাগল করে ছাড়বে।উফ!
আজ কাল তার মায়ায় পড়ে যাচ্ছি আমি।কেনো?আগে তো এমন হতো না।এখন কেনো তাকে দেখলেই মনের ভেতর ধুপধুপানিটা বেড়ে যায়।

"তিশা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে।সকালের হালকা শীতল বাতাসেও তিশা আজ কেঁপে উঠছে।নতুন এই ফিলিংস তিশার মন মস্তিষ্কে বিচরণ করছে।কিন্তু তিশার অনেক ভালো লাগছে।"

---দূর আকাশ থেকে ফযরের আযানের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে।কিছুক্ষন আগে ফোনটা কেটে দিলো তিশা।কারন জিসান সারারাত বক বক করে একটু আগে ঘুমালো।আর জিসান ঘুমিয়ে পড়েছে বলেই,তিশা ফোনটা কেটে দিলো।

তিশার মুখে লজ্জামাখা হাসি ফুটে উঠলো,জিসানে কথা মনে পড়ে।জিসানের মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা কিছু গোপন চাওয়া গুলোর কথা মনে পড়লেই তিশার মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে যায়।
কিসব কথা গুলো বলেছে।লোকটা আসলেই একটা বেহায়া,তা না হলে এসব কথাও বলে।ভাগ্যিস উনি নেশায় ছিলেন।তা না হলে আমি মরেই যেতাম।এখন তো তার সামনে যেতেই লজ্জা করবে।উফফ!!

আচ্ছা ফেসাদ এ ফেলে দিয়েছে আমাকে।

চলবে.....।

No comments